সম্রাট জাহাঙ্গীর : রূপান্তরের বাদশাহী-১২

সম্রাটের হৃদয় কাঁদছে। কিন্তু ন্যায়বিচারের প্রশ্নে তার অঙ্গীকার অবিচল। তিনি রায় ঘোষণা করলেন। নিজের স্ত্রীর অপরাধের সাজা হলো মৃত্যুদ-। উপমহাদেশের ইতিহাস সেদিন স্তব্ধ হয়েছিলো আরেকবার। নুরজাহান রোদন করছেন। সম্রাটের চোখেও অশ্রু। সম্রাট তাঁকে ভালোবাসতেন জীবনের চেয়েও বেশি। কিন্তু তার চেয়েও বেশি দায়বদ্ধ তিনি ন্যায়ের কাছে। মায়া, মমতা, আবেগ, অনুরাগ সকল কিছুই এর কাছে পরাভূত। নুরজাহান কেঁদে কেঁদে বললেন, সমস্ত প্রেম, সমস্ত সেবা, মমতা ও স্মৃতি কীভাবে ভুলে গেলেন আপনি? কীভাবে আমার হত্যার হুকুম দিতে পারলেন আপন জবানে? জাহাঙ্গীরের কণ্ঠ বাষ্পরুদ্ধ। হৃদয়ভাঙা বেদনা তাকে কাতর করেছে। বললেন, আমার মনের তুলাদ-ে তোমার সারা জীবনের প্রেম, সেবাকে এক পাল্লায় রেখেছি, অন্য পাল্লায় রেখেছি হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর আইনকে। আমার কাছে প্রধান্য পেয়েছে ইসলামের আইনের নির্দেশ। ইসলামের আইনে তুমি তাকে হত্যা করতে পারতে প্রাণনাশের বা ব্যাভিচারের অপরাধে। কিন্তু সে দোষ তো তার ছিল না। সে ছিল বিকৃত মস্তিষ্ক। ফলে তোমার মৃত্যুদ-ের সিদ্ধান্ত থেকে সরে যাওয়া আমার জন্য সম্ভব নয়। যদিও এটা তোমার মৃত্যুর চেয়ে আমাকে বেশি মারবে। প্রতিদিন, প্রতিরাত মারবে। ইনসাফের এই নজির দেখে বিচারপ্রার্থী হিন্দু প্রজারা রোদন শুরু করলো। অভিযোগকারীরা বললেন, ন্যায়পরায়ণ বাদশা! আমরা প্রাণদ- চাই না। নূরজাহানকে আমরা ক্ষমা করে দিলাম। কারণ, তিনি তো আর ইচ্ছে করে খুন করেননি। তিনি যা করেছেন, নিজেকে রক্ষার জন্যই করেছেন। নূরজাহান নিজের প্রাণ ফিরে পেলেন আর ন্যায়বিচার আরেকবার ফিরে পেলো আপন মহিমা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *